সাভারে জেএমবির আস্তানায় অভিযান, ১১ বোমা ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার

ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১১টি পাইপ বোমা, গানপাউডার, সায়ানাইডসহ বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এ সময় সেখান থেকে আরিফ নামে সংগঠনটির সক্রিয় এক সদস্যকেও গ্রেফতার করা হয়েছে ।

সিটিটিসি জানিয়েছে, জেএমবির বোমা তৈরির কারিগর হিসেবে পরিচিত ‘বোমারু মামুন’ ওই আস্তানায় আসা-যাওয়া করতেন। সেখানে তিনি বোমা তৈরির কাজও তদারক করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন তিনতলা ভবনের নিচতলায় অভিযান চালায় সিটিটিসি ও সাভার মডেল থানার পুলিশ। অভিযান শেষে ভবনটি থেকে উদ্ধার ১১টি পাইপ বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়।

সিটিটিসি সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় আরিফের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ থেকে বিশেষ কৌশলে লুকানো ছয়টি শক্তিশালী পাইপ বোমা ও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উদ্ধার করা হয়। পরে ওই বাসায় তল্লাশি চালিয়ে আরো ৫টি পাইপ বোমা, গানপাউডার, সায়ানাইড ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া যায়।

পুলিশের তথ্য বলছে, গত ২ আগস্ট ভুয়া পরিচয় দিয়ে ওই ভবনের নিচতলার একটি রুম ভাড়া নেন আরিফ। বাড়ির মালিকের কাছে নিজেকে ড্রাইভার হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, পরিবার নিয়ে সেখানে থাকবেন। সেইসঙ্গে পাশের একটি স্কুলে শিশুদের পড়াবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

ভবনের মালিক আব্দুল জলিলের মেয়ে ইলমা বলেন, ‘আব্বাস আলী’ নামের একজনসহ দুজন বাসা ভাড়া নিতে এসেছিলেন। পরে ২ আগস্ট তাদের বাসা ভাড়া দেয়া হয়। তারা স্বামী-স্ত্রী থাকবেন এবং পাশের একটি স্কুলে বাচ্চাদের পড়াবেন বলে জানিয়েছিলেন। তিনি আরো বলেন, তারা বলছিলেন লোকটা গাড়ি চালায়, ড্রাইভার। পরিবার নিয়ে থাকবে মনে করেই বাসা ভাড়া দিয়েছি। ভেতরে এত কিছু লুকিয়ে রাখছে, তা আমরা জানতাম না।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, পুরো এলাকা ঘিরে রেখে উদ্ধার সব বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। গ্রেফতার আরিফের কাছ থেকে জেএমবির বিপুলসংখ্যক দাওয়াতি ও সাংগঠনিক লিফলেটও উদ্ধার করা হয়েছে।

সিটিটিসি ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন, রাজধানীর মতিঝিল ও আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে দুজনকে শনাক্ত করা হয়। তাদের একজন আরিফ এবং অপরজন বোমারু মামুন, যাকে এ ঘটনার মূলহোতা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের শ্যামপুরে আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন বাড়িটি ঘিরে অভিযান চালানো হয়েছে। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক ও বিস্ফোরক উদ্ধার এবং আরিফকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বোমারু মামুনকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আজ দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *