
ক্রীড়া ডেস্ক : জাপানের নাগোয়ায় জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ২০তম এশিয়ান গেমস। শনিবার মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে নাচ, সংগীত ও আতশবাজির বর্ণিল আয়োজনে শুরু হয় এবারের আসর। তবে উদ্বোধনের আগে খেলোয়াড়দের আবাসন, পরিবহন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগের কারণে আয়োজকদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৪৫টি দেশ ও অঞ্চলের প্রতিনিধিরা কুচকাওয়াজে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাপানের সম্রাট নারুহিতো ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সভাপতি কার্স্টি কভেন্ট্রি। পরে সম্রাট আনুষ্ঠানিকভাবে এশিয়ান গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এবারের এশিয়ান গেমসে ৪৩টি খেলায় ৩৬৯টি সোনার পদকের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১১ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ। আয়োজকেরা আলাদা কোনো অ্যাথলেট ভিলেজ তৈরি না করে খরচ কমানোর জন্য হোটেল, অস্থায়ী কাঠের কনটেইনার এবং বন্দরে রাখা একটি প্রমোদতরীতে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের থাকার ব্যবস্থা করেছেন।
এ নিয়েই শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি দলের আবাসনে কক্ষ নিয়ে বিভ্রাট ও দ্বৈত বুকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগ, গার্ডেন পিয়ারে তৈরি কনটেইনারগুলো তাদের বাস্কেটবল খেলোয়াড়দের জন্য অতিরিক্ত ছোট। ভারতের পুরুষ ক্রিকেট দলও আয়োজকদের বরাদ্দ করা কক্ষের স্বল্পতার কারণে আলাদা হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করেছে।
খেলোয়াড়দের নিবন্ধনের সময় দীর্ঘ অপেক্ষা এবং নির্ধারিত সময়ের পর বাস আসা নিয়েও অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। কোথাও কোথাও খেলোয়াড়দের ভুল ভেন্যুতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এশিয়ান অলিম্পিক কাউন্সিল সমস্যাগুলো স্বীকার করলেও এগুলোকে আয়োজনের শুরুর দিকের স্বাভাবিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুটা ছিল তুলনামূলক শান্ত। হৃদয় আকৃতির মঞ্চে শাস্ত্রীয় সংগীত ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে বিভিন্ন দেশের কুচকাওয়াজের পর অনুষ্ঠানে যোগ হয় বর্ণিল নৃত্য, সংগীত ও আতশবাজি। নাগোয়ার শিল্প ও উৎপাদন ঐতিহ্য তুলে ধরতে বিশেষ পরিবেশনাও ছিল।
এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল ‘হারমোনিক হার্ট বিট’। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সংহতি ও বন্ধুত্বের বার্তা তুলে ধরাই ছিল এর উদ্দেশ্য। তবে গেমস শুরুর আগেই কয়েকটি ঘটনায় সেই বার্তা কিছুটা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
শুক্রবার তাইওয়ানের প্রতিনিধিদল তাদের স্বাগত অনুষ্ঠানে সাময়িকভাবে অংশ নেয়নি। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী ও সাবেক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন লি ইয়াংকে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। আবার দক্ষিণ কোরিয়ার পুরুষ হকি দলের ম্যাচের আগে ভুল করে উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত বাজানো নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়।
বাস্কেটবল ও ফুটবলসহ কয়েকটি খেলার প্রতিযোগিতা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। তবে প্রথম সোনার পদক দেওয়া হবে রোববার, ট্রায়াথলনে। একই দিন টোকিওতে শুরু হবে সাঁতারের প্রতিযোগিতা। এতে চীনের ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে বিশ্ব রেকর্ডধারী প্যান ঝানলে ও ১৩ বছর বয়সী সাঁতারু ইউ জিদির মতো তারকারা অংশ নেবেন।
ঐতিহ্যবাহী অলিম্পিক ইভেন্টের পাশাপাশি এবারের এশিয়ান গেমসে এশিয়ার জনপ্রিয় কাবাডি ও সেপাক তাকরোর মতো খেলাও থাকছে। হাংঝু এশিয়ান গেমসে অভিষেক হওয়া ই-স্পোর্টসেও এবার পদক দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো তেকবল ও ‘ভার্চুয়াল তায়কোয়ান্দো’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
