‘বরের পরিচয় জানতে চেয়ে বিব্রত করবেন না’

বিনোদন ডেস্কঃ হঠাৎ বিয়ের খবর দিয়ে ভক্তদের চমকে দিলেন তরুণ প্রজন্মের সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার পারশা মাহজাবীন। গত ২৬ অক্টোবর দেশের বাইরে সম্পন্ন হয়েছে তার আক্‌দ। তবে বিয়ের খবর প্রকাশ করলেও জীবনসঙ্গীর পরিচয় এখনই সামনে আনতে নারাজ এই শিল্পী। এমনকি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা বিয়ের ছবিতেও ফুল দিয়ে ঢেকে রেখেছেন বরের মুখ। আর তাতেই শুরু হয়েছে ভক্তদের নানা জল্পনা-কল্পনা।

বিয়ের খবর জানিয়ে পারশা যেন রহস্যের পর্দা আরও একটু বাড়িয়ে দিয়েছেন। বর কে, কী তাঁর পরিচয়-এমন প্রশ্নের উত্তর আপাতত দিতে চান না তিনি। বরং আগ্রহীদের উদ্দেশে মজার ছলে বলেছেন, ‘বরের পরিচয় জানতে চেয়ে আমাকে বা আমার পরিবারকে বিব্রত করবেন না।’

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিয়ের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন পারশা। তিনি জানিয়েছেন, দেশের বাইরে তাদের আক্‌দ সম্পন্ন হলেও ভিসা জটিলতার কারণে তার পরিবারের কেউ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে বরের পরিবারের সদস্যরা সেখানে ছিলেন। অবশ্য বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। আগামী ছয় মাসের মধ্যে দুই পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে বাকি আয়োজন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বরের পরিচয় গোপন রাখার কারণও জানিয়েছেন এই সংগীতশিল্পী। তার ভাষ্য, নাম প্রকাশ করলেই অনেকেই স্বামীকে চিনে ফেলবেন। তাই আপাতত পরিচয় আড়ালেই রাখতে চান। প্রায় এক বছর আগে দেশের বাইরে ঘুরতে গিয়ে তাদের পরিচয় হয়। এরপর কথাবার্তা থেকে সম্পর্কের শুরু। একপর্যায়ে নিজের পছন্দের কথা পরিবারকে জানান পারশা। তার সিদ্ধান্তে পরিবারেরও সম্মতি ছিল।

তবে বিয়ের ছবিতে শুধু বরের মুখ ঢেকে রাখাই নয়, এর পেছনে রয়েছে পারশার বিশেষ বার্তা। তার মতে, নারীর মুখ ঢাকা নিয়ে সমাজে যতটা স্বাভাবিকতা রয়েছে, পুরুষের ক্ষেত্রে ততটা দেখা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে কনের মুখ ঘোমটা বা পর্দায় ঢেকে রাখার প্রচলন থাকলেও বরের মুখ আড়াল করলেই তৈরি হয় বাড়তি কৌতূহল।

বরের মুখ ঢাকা প্রসঙ্গে পারশা বলেন, বিয়েটি দুজনের হলেও মুখ ঢাকা নিয়ে মানুষের আগ্রহ যেন শুধু একজনকে ঘিরেই। প্রচলিত সামাজিক দৃশ্যপট এক দিনের জন্য উল্টে দিয়েছেন তিনি। এতে কারও অস্বস্তি হলে সেটি তার ছবির চেয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই বেশি প্রশ্ন তোলে বলে মনে করেন এই শিল্পী।

নারীর পোশাক কিংবা সৌন্দর্যকে পুরুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার প্রচলিত ধারণারও সমালোচনা করেছেন পারশা। তার মতে, ব্যক্তিগত ইচ্ছায় কেউ পর্দা করলে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে সেটি গ্রহণযোগ্য নয়।

জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন পারশা। ছোটবেলা থেকেই বাবার ভালোবাসা, আদর ও নিরাপত্তার মধ্যে বড় হয়েছেন তিনি। তাই জীবনসঙ্গীর কাছেও চেয়েছেন একই রকম নির্ভরতা ও নিশ্চিন্ত আশ্রয়। তার কথায়, বাবার প্রায় প্রতিচ্ছবির মতো একজন মানুষ পেয়েছেন তিনি। তবে শুধু ভালোবাসা নয়, মানুষ, পশুপাখি ও প্রকৃতির প্রতি সংবেদনশীলতাও ছিল তার অন্যতম প্রত্যাশা।

পারশা এমন একজন সঙ্গী চেয়েছেন, যার সঙ্গে দর্শন, বিজ্ঞান, শিল্প ও সাহিত্য থেকে শুরু করে জীবনের নানা জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা ও তর্ক করা যায়। যাঁর মানবিকতা শুধু কথায় নয়, আচরণেও প্রকাশ পায়।

জীবনসঙ্গী নির্বাচনে নিজের স্বাধীনতা ও স্বকীয়তার বিষয়টিও স্পষ্ট করেছেন তিনি। পারশার জানান, ‘আমি কখনো এমন পুরুষ খুঁজিনি, যিনি আমাকে রাজমুকুট পরিয়ে দেবেন। আমি এমন একজনকে খুঁজেছি, যিনি কখনোই আমার মাথা থেকে সেই মুকুট খুলে রাখতে বলবেন না।’

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ‘চলো ভুলে যাই’ গান গেয়ে আলোচনায় আসেন পারশা মাহজাবীন। সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন এই জেন-জি শিল্পী। এবার বিয়ের খবর দিয়ে ভক্তদের চমকে দিলেও জীবনসঙ্গীর পরিচয় আপাতত রহস্যেই রাখতে চান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *