হুমায়ুন কবির | বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা, ০১ মে ২০২৬
ঢাকা:- দেশের সামগ্রিক সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করতে ‘জাতীয় সমন্বয় কমিটি’ গঠন করেছে সরকার। এই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির কার্যক্রম পরিচালনায় কেন্দ্রবিন্দু বা ‘প্রধান সমন্বয়ক’ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।
৩০ এপ্রিল ২০২৬ (১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারিকৃত এক বিশেষ গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কমিটি গঠনের তথ্য জানানো হয়েছে।
ড. শামছুল ইসলামের বিশেষ ভূমিকা:-
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই কমিটির সভাপতি হিসেবে থাকছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এবং সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে নীতিনির্ধারণী সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবেন।
একজন অভিজ্ঞ সামরিক বিশেষজ্ঞ ও কৌশলবিদ হিসেবে ড. শামছুল ইসলাম সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নিকট নিরাপত্তা সংক্রান্ত কৌশলগত রিপোর্ট পেশ করবেন এবং কমিটির সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবেন।
জাতীয় সমন্বয় কমিটির গঠন কাঠামো:-
সরকারের এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:
১. সভাপতি: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
২. সহ-সভাপতি: মাননীয় মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
৩. প্রধান সমন্বয়ক: প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা (ড. শামছুল ইসলাম)।
৪. সদস্য: মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
৫. সদস্য: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।
৬. সদস্য: প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ।
৭. সদস্য: পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি)।
৮. সদস্য: মহাপরিচালক, ডিজিএফআই।
৯. সদস্য: মহাপরিচালক, এনএসআই।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের অভিমত:-
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ড. শামছুল ইসলামের মতো একজন দক্ষ ব্যক্তিত্বকে ‘প্রধান সমন্বয়ক’ করার ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। এটি প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে জাতীয় নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।
উল্লেখ্য, নবগঠিত এই কমিটি নিয়মিত বিরতিতে সভা করবে এবং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সরকারকে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ গেজেট ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (৩০ এপ্রিল ২০২৬)।
