হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। একইসঙ্গে দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে। তবে এর বিপরীত দাবি করেছে ইরান। তেহরানের ভাষ্য, জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি এখনো বন্ধ রয়েছে। খবর রয়টার্স।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ছয় মাস ধরে সংঘাত চলছে। চুক্তির মাধ্যমে সংঘাত অবসানের সম্ভাবনা কমে আসায় গতকাল ফের জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। একই সময়ে শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় অর্থনীতিগুলোর ঋণের সুদহার কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট মূল্যস্ফীতি ও সরকারি অর্থব্যবস্থায় কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

সোমবার দেশ দুটির মধ্যে হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এর পর ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, কূটনৈতিক অচলাবস্থার কারণে ইরান এখন ‘পুরোপুরি আক্রমণাত্মক’ সামরিক অবস্থানে যাচ্ছে। তবে মঙ্গলবার কোনো পক্ষের নতুন হামলার খবর পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না, এমনকি কোনো আলোচনাও নির্ধারিত নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। হরমুজ প্রণালি খোলা ও সচল। সব নৌমাইন সরিয়ে ফেলা হয়েছে অথবা ধ্বংস করা হয়েছে।’

তবে এর এক দিন আগে ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ভিন্ন সুরে কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখনো চলছে এবং আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় তা ‘সম্ভবত আরো জোরালো’।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাচ্ছে বলে ট্রাম্প দাবি করলেও বিভিন্ন দেশ জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টির নতুন ঘটনার কথা জানিয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। ৪ মে ফুজাইরাহ বন্দরে হামলার পর এটিই এ ধরনের প্রথম ঘটনা।

পরে মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ‘সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজ’ লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। তবে দুটিই সমুদ্রে পড়ে যায়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আরব আমিরাতের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’।

এদিকে ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, লেনদেন ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে—এই কারণ দেখিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে আরব আমিরাতের সরাসরি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল মাত্র জুনের শেষ দিকে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দর দিয়ে আবার শুরু হয়েছিল। যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন পর, মার্চের শুরুতেই ইউএই সরাসরি জাহাজ চলাচল বন্ধ করেছিল।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের গতকাল বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় এখনো আগ্রহী। তবে আলোচনাকে আত্মসমর্পণের সঙ্গে গুলিয়ে দেখা উচিত নয়। আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি তার বক্তব্য প্রকাশ করেছে।

মোখবের বলেন, সামরিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা ইরানের মনোবল ভাঙতে পারবে না। যুদ্ধ না চাইলেও নিজেদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মিত্রদের রক্ষায় ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *