‘মেসিই আমাকে বলের প্রেমে ফেলেছেন, জাতীয় দলকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন’

ক্রীড়া ডেস্কঃ লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচকে ঘিরে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের শিবিরে তৈরি হয়েছে আবেগঘন পরিবেশ। সতীর্থদের কথায় উঠে আসছে মেসির সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতি, ভালোবাসা ও বিদায়ের কষ্ট। বাংলাদেশ সময় বুধবার (০৬ অক্টোবর) ভোর ৫টায় বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের এই ম্যাচটিই জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ হতে যাচ্ছে।

বুয়েনস এইরেসে আর্জেন্টিনা দলের ক্যাম্পে এখন চলছে মেসিকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি। গত পরশু বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ৭ গোলে জয় পেয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে সেই বড় জয়ের উচ্ছ্বাস ছাপিয়ে দলের ভেতরে এখন বেশি আলোচনায় মেসির শেষ ম্যাচ।

মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ বলেছেন, মেসির শেষ সময়টা সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দে কাটাতে চান তারা। তিনি বলেন, তারা একসঙ্গে বারবিকিউ খাবেন এবং মেসির সঙ্গে এই দিনগুলো উপভোগ করবেন। মেসির বিদায়টা দারুণ হোক এবং তিনি যেন শেষ ম্যাচটি উপভোগ করতে পারেন, সেটিই সতীর্থদের চাওয়া।

মেসির সঙ্গে আগে কখনো একই ড্রেসিংরুম ভাগ না করা ২২ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড সান্তিয়াগো কাস্ত্রোর কাছে এই মুহূর্তটি আরও বিশেষ। ছোটবেলা থেকে মেসিকে দেখে বেড়ে ওঠা এই তরুণ বলেছেন, মেসিই তাকে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এবং জাতীয় দলের জার্সির গুরুত্ব বুঝতে শিখিয়েছেন। তবে মেসির বিদায় তাকে একই সঙ্গে আনন্দিত ও দুঃখিত করছে।

রাইটব্যাক অগাস্তিন হিয়াইয়ের কাছেও মেসির বিদায়ের রাতটি হবে আবেগের। তার মতে, দিনটি যেমন দুঃখের, তেমনি আনন্দেরও। কারণ মেসি তার প্রাপ্য সম্মান নিয়ে জাতীয় দলকে বিদায় জানাতে পারছেন।

মিডফিল্ডার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি অবশ্য মেসির বিদায়ের বিষয়টি এখনো সহজভাবে নিতে পারছেন না। মেসিকে দেখে বড় হওয়া এই ফুটবলার বলেছেন, জাতীয় দলে মেসির অনুপস্থিতি বড় শূন্যতা তৈরি করবে।

২৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড মাতিয়াস সুলের কাছেও মেসির শেষ ম্যাচে উপস্থিত থাকা সৌভাগ্যের। একই ড্রেসিংরুম ভাগ করার অভিজ্ঞতাকে বিশেষ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, মেসি পুরো বিশ্বের একজন আদর্শ এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের নায়ক। তাই তার বিদায়ের মুহূর্ত একই সঙ্গে দুঃখের ও চমৎকার।

মেসির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। কথা বলার সময় চোখ মুছতে দেখা যায় তাকে। মার্তিনেজ বলেন, মেসি যেন শেষ ম্যাচটি যতটা সম্ভব উপভোগ করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে সতীর্থরা তাকে ভালোবাসায় ভাসিয়ে দিতে চান। আনন্দের সঙ্গে বিদায় নেওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ক্যারিয়ার শিরোপা, গোল ও রেকর্ডে সমৃদ্ধ। বিশ্বকাপ জয় থেকে কোপা আমেরিকা, জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি পেয়েছেন অসংখ্য সাফল্য। তবে বিদায়ের আগে সতীর্থদের চাওয়া খুব বেশি নয়। শেষ ম্যাচে তাঁকে শুধু হাসতে দেখতে চান তারা।

জাতীয় দলের সঙ্গে মেসির দীর্ঘ পথচলার শেষ মুহূর্তে তাই মনুমেন্টালে প্রতিপক্ষ বেনিনের চেয়ে বড় হয়ে উঠছে বিদায়ের আবেগই। সেই রাতে সতীর্থদের চোখে পানি থাকবে, মেসিও হয়তো আবেগ ধরে রাখতে পারবেন না। দীর্ঘদিনের পরিচিত বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার রাতে যেমনটা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *