মাইক্রোপ্লাস্টিক কী? মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শ থেকে বাঁচতে করণীয়

প্লাস্টিক প্রাকৃতিকভাবে পচনশীল নয়। এটি পরিবেশে শত শত, এমনকি হাজার হাজার বছর টিকে থাকতে পারে। এই প্লাস্টিক ধীরে ধীরে ভেঙে আরও ছোট ছোট কণায় পরিণত হয়, যাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক মাটি, নদী ও সমুদ্রে জমা হতে থাকে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করেছে। এর অর্থ—আমরা যে মাছ, মুরগি, কৃষিপণ্য ও সামুদ্রিক খাবার খাই, তাতে মাইক্রোপ্লাস্টিক মিশে থাকতে পারে।

স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব

প্লাস্টিক যখন ভেঙে অতি ক্ষুদ্র ন্যানো আকারের কণায় পরিণত হয়, তখন সেগুলো খাবার, পানি, এমনকি শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এই ক্ষুদ্র কণাগুলো হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে।

নারীদের ক্ষেত্রে ফাইব্রয়েড, এন্ডোমেট্রিওসিস ও পিএমওএসের মতো হরমোনজনিত সমস্যা বাড়ায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর গুণমান ও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যেতে পারে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক সময়ের আগে বয়ঃসন্ধি বা বিলম্বিত বয়ঃসন্ধি ঘটাতে পারে। শিশুর বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। মাইক্রোপ্লাস্টিকের সঙ্গে ফুসফুস, স্তন ক্যানসার, প্রোস্টেট ও লিভার ক্যানসারের মতো রোগের যোগসূত্র রয়েছে। এ ছাড়া অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার ও পিত্তনালির ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় মাইক্রোপ্লাস্টিক।

মাইক্রোপ্লাস্টিক অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমকে ব্যাহত করতে পারে। এই কণাগুলো অন্ত্রের আস্তরণে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা খাদ্য সংবেদনশীলতা থেকে শুরু করে অটোইমিউন রোগ ও মাানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে।

করণীয়

  • প্লাস্টিকের চপিং বোর্ড ব্যবহার না করে কাঠের বা শক্ত কাচের বোর্ড ব্যবহার করতে হবে।
  • স্টেইনলেস স্টিল, ফুড গ্রেড সিলিকন বা কাঠের বিকল্প ব্যবহার করতে হবে। বাঁশের বা স্টেইনলেস স্টিলের স্ট্র ব্যবহার করতে হবে।
  • খাবারের সংস্পর্শে আসে—এমন যেকোনো প্লাস্টিকে বিপিএ আছে কি না, তা পরীক্ষা করে কিনতে হবে।
  • প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার গরম করা যাবে না।
  • অনেক টি–ব্যাগে পলিপ্রোপাইলিন থাকে, যা একধরনের প্লাস্টিক। তাই খোলা চা–পাতা ব্যবহার করা ভালো।
  • প্লাস্টিকের টুথব্রাশের বদলে বাঁশের টুথব্রাশ ব্যবহার করতে হবে।
  • বাজার করতে পাটের ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে।
  • স্টেইনলেস স্টিল বা তাপ নিরোধক পানির বোতল ব্যবহার করতে হবে।
  • প্লাস্টিকের গ্লাসে পানি বা কোমল পানীয় পান এড়িয়ে চলতে হবে।

শিশুদের জন্য

  • স্টেইনলেস স্টিলের টিফিন বক্স দিতে হবে।
  • শিশুকে সুতির কাপড় পরাতে হবে।
  • প্লাস্টিকের খেলনার পরিবর্তে কাঠের, তুলার, সিলিকন বা রাবারের খেলনা দিতে হবে।

কী খাওয়া যেতে পারে

নীল, বেগুনি, লাল ফল ও সবজিতে অ্যান্থোসায়ানিন থাকে। এটি মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাব মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে।

তাই খাদ্যতালিকায় ডালিম, ড্রাগন, বিট, গাজর, স্ট্রবেরি, চেরি, ব্লুবেরি, লাল পেঁয়াজ ইত্যাদি রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *