তৃণমূলের নাম-প্রতীক স্থগিত, ক্ষুব্ধ মমতার কণ্ঠে ‘গণতন্ত্রের কালো দিন’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের মধ্যে ভারতের নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচলিত নাম ও ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দিনটিকে ‘গণতন্ত্রের কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর তৃণমূলের দুই পক্ষকে পৃথক নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই পুরোনো ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও প্রচলিত ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পক্ষকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন পক্ষ পেয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক। এসব পরিচয় আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি। কমিশন জানিয়েছে, বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত একই নাম ও প্রতীক ব্যবহার নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতেই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে কমিশনের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি সিদ্ধান্তটিকে ‘অসাংবিধানিক, বেআইনি ও অগণতান্ত্রিক’ বলে অভিহিত করেছেন। পাশাপাশি তিনি এটিকে ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে ‘কালো দিন’ বলে মন্তব্য করেছেন।

মমতার নেতৃত্বাধীন পক্ষের দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন দলের নাম ও প্রতীক স্থগিত করার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আসন্ন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নাম ও প্রতীক নিয়ে এই জটিলতার প্রভাব পড়েছে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনেও। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মমতা-সমর্থিত পক্ষের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন এবং পরে মমতা নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা দেন।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিরোধ আরও প্রকাশ্যে এসেছে। পুরোনো নাম ও প্রতীক নিয়ে কার দাবি গ্রহণযোগ্য হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পরিচয় ও প্রতীক নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকেই পৃথক নাম ও প্রতীকে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে হবে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘জোড়া ফুল’ প্রতীককে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিরোধ এখন নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে।

তবে নির্বাচন কমিশনের বর্তমান সিদ্ধান্তটি অন্তর্বর্তী। তাই ভবিষ্যতে দলীয় নাম ও প্রতীকের বিষয়ে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি আরও পরিবর্তন করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *