‘ভুল চিকিৎসায়’ মৃত্যু, গৃহবধূর বাড়িতে গিয়ে বিচারের আশ্বাস স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

ফরিদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের ৫৩ দিন পর কনিকা রানী মণ্ডল নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ‘ভুল চিকিৎসা’র অভিযোগ এনে পরিবার বলছে, পেটে গজ রেখে সেলাই করা হয়েছিল। এ ঘটনায় প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় আজ শুক্রবার সকালে কনিকার বাড়িতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এসময় তিনি বলেন, এ ঘটনায় দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সরকার পরিবারটির পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, গত ১৭ বছরে হাসপাতালগুলোর সামনে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্বাস্থ্যসেবার মান ব্যাহত করার অন্যতম কারণ। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে সমস্যাগুলো সমাধানে কিছুটা সময় লাগবে।

দেশজুড়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

নিহতের স্বামী অশান্ত কুমার মণ্ডল জানান, ‘গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে কনিকা রানী মণ্ডলের সিজারিয়ান অপারেশন হয়। চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত তার অপারেশন করেন।’

অশান্ত কুমারের অভিযোগ, অপারেশনের পর চিকিৎসককে ছোটাছুটি করতে দেখা যায় এবং সব কাজ শেষ না করেই তিনি চলে যান। এ সময় কনিকার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে কিছুটা সুস্থ হলে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

৩ জুলাই কনিকার পেট ফুলে গিয়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেয়া হয়। পরে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তার পেটে গজ কাপড় রেখে সেলাই করার বিষয়টি শনাক্ত করেন বলে পরিবারের দাবি। এর পর অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে প্রায় দেড় কেজি ওজনের গজ কাপড় বের করা হয়।

এরপরও দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৯ আগস্ট মারা যান কনিকা রানী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *