
ডেস্ক নিউজ : বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর বাঁধে আবারও ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি স্পারের প্রায় ৬৫ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
এর আগে ১২ জুলাই এই বাঁধের সামনের অংশের ৫০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়। এতে বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় পড়েছেন নদী পাড়ের মানুষ। তারা বাধ্য হয়ে ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমতে থাকায় যমুনা নদীতে প্রবল স্রোত বইছে। এতে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে বাঁধে আঘাত হানায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। কয়েকদিনের টানা স্রোত ও নদীর তীব্র ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের হাজারো মানুষের। গত দুই মাস ধরে প্রতিদিনই নদীর পাড় ধসে পড়ার শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর যমুনার ভাঙনে সহায়-সম্বল হারাতে হচ্ছে তাদের। নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কার্যকর উদ্যোগ খুব কম। ফলে বর্ষা এলেই নতুন করে শুরু হয় ভাঙন আতঙ্ক। যমুনা নদী কেড়ে নিচ্ছে মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। অনেক পরিবার আশ্রয় নিচ্ছেন বাঁধের ওপর, অনেকে অন্যের জায়গায়। ভিটেমাটি আর ফসলি জমি হারিয়ে তারা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এদিকে ভাঙন যদি একই গতিতে অব্যাহত থাকে, তবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে এবং নতুন করে দুর্ভোগে পড়তে পারেন হাজারো মানুষ। যমুনার এই অব্যাহত ভাঙন যেন আর কোনো পরিবারকে নিঃস্ব না করে এটাই এখন নদীপাড়ের মানুষের দাবি।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, ধুনট উপজেলার শহড়াবাড়ি স্পারের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ভাঙনরোধে কাজ করছে।
