কলকাতায় তৃণমূল নেতা অভিষেকের বাড়িতে হামলা, অভিযোগ বিজেপির দিকে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। তবে তার অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে প্রত্যাখ্যান করেছে বিজেপি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন অভিষেক।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিষেক জানান, বিজেপির সমর্থকেরা তার বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছেন। এ সময় কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, ঘটনাটি ঘটার সময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।

অভিষেকের দাবি, গত ছয় মাসে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ নিয়ে সাতবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এক্সে প্রকাশ করা একটি বার্তা ও ভিডিও ফুটেজে তিনি তার বাড়ি এবং কার্যালয়ের আশপাশে বেশ কিছুদিন ধরে নজরদারির চিত্র তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নজরদারির পরই সর্বশেষ হামলার ঘটনা ঘটে।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে অভিষেক প্রশ্ন করেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিই যদি নিজের রাজ্যে নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অবস্থা কী হতে পারে। এ ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। বিচার বিভাগ এ বিষয়ে নিষ্ক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তৃণমূলের এই নেতা।

এর আগে অভিষেক অভিযোগ করেছিলেন, অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশ পরিচয়ে তার বাড়ি ও কার্যালয়ের আশপাশে নজরদারি চালাচ্ছেন। কার নির্দেশে এবং কী উদ্দেশ্যে এ কাজ করা হচ্ছে, তা জানতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন তিনি।

তবে অভিষেকের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখা। দলটির নেতা ও রাজ্যের সাবেক সভাপতি দিলীপ ঘোষ দাবি করেছেন, রাজনৈতিকভাবে কোনো ইস্যু না পেয়ে অভিষেক সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। তার প্রশ্ন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অভিষেকের প্রাণনাশের প্রয়োজন কার রয়েছে?

দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, রাস্তায় তৃণমূল নেতার জন্মদিন পালনের মতো ঘটনা এবং অহেতুক বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হলে তার প্রতিক্রিয়া হওয়াটাই স্বাভাবিক।

বিজেপির বক্তব্য, নিজেদের ব্যর্থতা ও দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই তৃণমূল নেতারা এ ধরনের অভিযোগ তুলছেন। অন্যদিকে, অভিষেক তার বিরুদ্ধে হামলা ও নজরদারির অভিযোগে অনড় রয়েছেন। এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে দুই দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *