বিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দাম

ডেস্ক নিউজঃ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। মার্কিন ডলারের দাম বাড়ায় স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্যের কারণে অক্টোবরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় দরপতন সীমিত পর্যায়েই থেকেছে। 

সোমবার (৫ অক্টোবর) রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল ১০টা ২২ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩১ দশমিক ৬১ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ডিসেম্বর মাসের ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫৯ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়ায়।

এদিন মার্কিন ডলার সূচক ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। ফলে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের কাছে আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমেছে। এর পাশাপাশি আগের দুই মাসের নন-ফার্ম পে-রোলের হিসাবেও বড় ধরনের সংশোধন এসেছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, “দুর্বল শ্রমবাজারের তথ্য অক্টোবরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা কমিয়েছে। এতে স্বর্ণের দামে কিছুটা সমর্থন মিলছে। তবে অক্টোবরে সুদ না বাড়লেও ফেডের সামগ্রিক সুদ বৃদ্ধির চক্র অব্যাহত থাকবে বলে বাজার এখনো ধারণা করছে।”

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন মাত্র ১৮ শতাংশ। অন্যদিকে ডিসেম্বরে সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে ৮৮ শতাংশ।

গত মাসে ফেড তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো নীতিগত সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করে।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাও স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে। রোববার ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা পুনর্দখলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এতে স্বর্ণের বাজারেও অস্থিরতা বাড়তে পারে। তেলের দাম, বন্ডের সুদ ও ফেডের নীতির প্রত্যাশায় ওঠানামা থাকায় স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাড়তি তেল সরবরাহ এবং জি-৭ দেশগুলোর মজুত থেকে তেল ছাড়ার উদ্যোগে অপরিশোধিত তেলের দামও কিছুটা কমেছে।

এছাড়া অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৯৪ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দাম বেড়েছে ০ দশমিক ৫ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০৬ দশমিক ১৮ ডলারে। প্যালাডিয়ামের দাম অবশ্য ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ১৬৫ দশমিক ৪০ ডলার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *